রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা হত্যায় তিনজন গ্রেপ্তার, চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে খুনের দাবি পুলিশের; পরিবারের প্রশ্ন

ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চিনে ফেলায় ডালিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে; তবে নিহতের ছোট মেয়ে বলছেন, এর পেছনে ‘মাস্টারমাইন্ড’ থাকতে পারে।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা ডালিয়া আক্তারকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে চিনে ফেলায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তবে নিহতের ছোট মেয়ে পুলিশের দেওয়া কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রোববার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস/দক্ষিণ) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য জানান। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকার বাসিন্দা মো. অনিক (১৯), মো. আশিক (২৩) ও আলমগীর হোসেন (৩৬)।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুরের রসুলপুর এলাকায় সোনালী ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে সিরাজদিখানের বালুরচর এলাকা থেকে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আবদুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে আশিক ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ডালিয়ার আগে থেকে পরিচয় ছিল। গৃহকর্মীর কাজের জন্য তিনি সকালে বাসার দরজা খোলা রাখতেন, এটি তাঁরা জানতেন। সেই সুযোগে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে তাঁরা ফ্ল্যাটে ঢোকেন। ঘুমন্ত ডালিয়া তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার করলে তাঁকে জাপটে ধরা হয়। এ সময় তিনি চিনে ফেলায় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ও গলা কেটে তাঁকে হত্যা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর আশিক ও আলমগীর ভবনের ছাদ দিয়ে অন্য ভবনে গিয়ে পালান। অনিক বোরকা পরে বাসার মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। পালানোর সময় রসুলপুরের একটি বালুর মাঠে তিনি বোরকা ও জুতা ফেলে যান, যা অনিকের দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে পুলিশের বলা কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের ছোট মেয়ে লিজা আক্তার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ধারণা মাকে চুরির উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়নি।’ চুরি করতে এলে আলমারি ভাঙা হয়নি কেন এবং ঘরের কোনো জিনিস নেওয়া হয়নি কেন, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ রয়েছে। তিনি পুলিশকে অধিকতর তদন্ত করে হত্যার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অভিযুক্ত মাত্র; তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।