ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় পতনে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বড় পতন দেখেছে।
দেশের পুঁজিবাজার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা পতনের পর কিছুটা উন্নতি দেখে গত কয়েকদিন ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শিল্পকারখানায় নিয়মিত গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয় যা পুঁজিবাজারের পরিস্থিতির উন্নতির সূচনা করেছিল। তবে, ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বড় সূচক পতন ঘটে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, যেটি ২ মাসে প্রায় ৫০০ পয়েন্ট সূচক হারিয়েছে, সেটি আরও ৪১.৭১ পয়েন্ট কমে যায়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩৪.০৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেশ উদ্বেগ এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ও সেবা খাত আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহে আশ্বাস পাওয়ার পরও তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সংকট আরো গভীর হয়েছে। এ কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন আগের দিনকে ছাড়িয়ে ৭৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৪১ কোটি টাকা বেশি। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একইভাবে লেনদেন বৃদ্ধি ২১ কোটি টাকায় ঘটে।
পুঁজিবাজারে করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক। অন্যদিকে, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তার শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে টেক্সটাইল আনলিমা ইয়ার্ণ ডাইং ৫.৩৭ শতাংশ দর হ্রাসের ফলে তাদের বাজার প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে তেলের মুল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন এবং সেবা খাতের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। আগামী দিনগুলোতে পুঁজিবাজার কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, তা বিনিয়োগকারীদের নজর রাখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।