মার্কিন সামরিক হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে, বেন সলের প্রতিবেদন
মধ্যকারিবীয় সাগরে মাদক বহনের সন্দেহে ৬৮টি জাহাজ ধ্বংস, নিহত ২২৩ জন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর গ্রুপের ওপর ভূমিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন বেন সল। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ৬৮টি জাহাজে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। এতে কমপক্ষে ২২৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন প্রশাসন দাবি করে, এই আঘাতগুলো 'নার্কো-টেরোরিস্ট'দের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তবে বেন সলের প্রতিবেদন উক্ত আত্মরক্ষার তত্ত্বটি খারিজ করে দেয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাদক পাচার সশস্ত্র হামলার সীমা অতিক্রম করে না এবং এ কারণে এ ধরনের আক্রমণ আত্মরক্ষার অধিকার বিকৃত করে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি গ্রুপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করলেও তাদের অস্ত্রধারী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কোনো প্রমাণ নেই বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। এছাড়া কম ক্ষতিকর বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেও এই কার্যক্রম সম্ভব হত বলে মন্তব্য করেন মার্কো রুবিও।
গবেষণার অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আক্রমণগুলি মানবাধিকার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এগুলোকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের আইনি সংজ্ঞার সাথে মিলিয়ে দেখানো হয়েছে। বেন সল এই আঘাতগুলোর তদন্ত এবং প্রাপ্যতার ব্যবস্থা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান। বলেন, "মার্কিন সামরিক হামলাগুলি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটায়।"
প্রতিবেদনটি মার্কিন আক্রমণের অব্যাহত কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে, কোকেন দখল এবং ওপিওইড সচলকরণে তার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই। প্রসঙ্গত, মার্কিন সামরিক অভিযান চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে।
এই তথ্যগুলো বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীর সারাংশ মোতাবেক ওঠে আসছে। অনেকেই এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, এই পন্থা মাদকপাচার চক্র ভাঙন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।