দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি তুলে নিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। প্রায় ৩০ ঘণ্টা কাজের বাইরে থাকার পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে তাঁরা আবার ওয়ার্ডে ফিরবেন।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। প্রথম আলো জানায়, সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া আলোচনা চলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ কর্মবিরতি প্রত্যাহারের খবর নিশ্চিত করেছেন।
কেন কর্মবিরতি
পাঁচ দফা দাবিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন প্রায় আড়াই শ ইন্টার্ন চিকিৎসক। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তা অনির্দিষ্টকালের ঘোষণা করা হয়।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির অভিযোগ ছিল, ভর্তি ওয়ার্ডে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট রয়েছে। রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ আর আনসার সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলায় চিকিৎসকেরা হামলা, দুর্ব্যবহার, এমনকি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ছেন। অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ বন্ধ থাকায় ওয়ার্ডে রোগীর চাপও বেড়েছে। বারবার জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি তাঁদের।
দাবিগুলো হলো:
- ভর্তি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ
- ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- একজন রোগীর সঙ্গে দুজনের বেশি স্বজন ঢুকতে না দেওয়া
- ভর্তির দিন ও পরদিন সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি
- দ্রুত ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা
আশ্বাসে আস্থা
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থা রেখেই তাঁরা কাজে ফিরছেন; তবে আশ্বাস অনুযায়ী দাবিগুলোর দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন চান। এর আগে বুধবার মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, পাঁচ দাবির তিনটি মেনে নেওয়া হয়েছে, বাকি দুটি বিবেচনাধীন এবং সিদ্ধান্তগুলো ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
ভোগান্তিতে রোগীরা
কর্মবিরতির সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ ব্যাহত হয়। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হয়, চিকিৎসা না পেয়ে অনেকে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলেও প্রথম আলো জানিয়েছে। সেবা সচল রাখতে মেডিকেল কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।