চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নাগকু শহরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর দিয়েছে। তবে চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে দৈনিক ইত্তেফাক জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, নাগকু থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের এক পার্বত্য এলাকায়। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটি আঘাত হানে নাগকুর বাছেন কাউন্টিতে।
আহতের সংখ্যা নিয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা রয়েছে। আনাদোলু সিনহুয়ার বরাতে ৫৪ জন আহত হওয়ার কথা বলেছে, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ৩২। ইত্তেফাক সিসিটিভির বরাতে জানিয়েছে, আহত ৪৬ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি
সিনহুয়ার বরাতে টিআরটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনো চলছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে ধসে পড়া বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৩৩৯টি বলা হয়েছে। কাউন্টি সদরে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং টাউনশিপ কার্যালয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে টিআরটি।
আনাদোলু জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প জরুরি সাড়াদানের মাত্রা চতুর্থ স্তর থেকে তৃতীয় স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনী ৩৫০ জন উদ্ধারকর্মী ও ৮৩টি যান পাঠিয়েছে। ত্রাণ হিসেবে পাঠানো হচ্ছে ১ হাজার প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড ঘর ও ৩ হাজার ২৩৯টি তাঁবু। ইত্তেফাক জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য নামানো হয়েছে।
আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ইউএসজিএস প্রাণহানির ঝুঁকির জন্য হলুদ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা সাধারণত এমন ঘরে থাকেন, যা কম্পনে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চীনে ভূমিকম্প তুলনামূলক নিয়মিত ঘটনা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের তিংরি কাউন্টিতে এক ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।