শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন: জামায়াতের সঙ্গে জোট ও দলের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন, নেতৃত্বের বক্তব্য—আগে থেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে সামান্তা শারমিন বলেছেন, তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না; এনসিপি নেতারা বলছেন, জোটের পর থেকেই তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নিয়ে নিজের অসন্তোষ, দলে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি এবং দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে সামান্তা শারমিন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শুরুতে দলে মুক্ত আলোচনা ও দীর্ঘ বিতর্ক হলেও ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়ে যায় এবং দলটি একটি এককেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর দিকে এগোতে থাকে। তিনি বলেন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আবেগ বা অভিমান থেকে নেওয়া নয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক পর্যালোচনার ফল।

জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে যাওয়াকে তিনি দলের বড় আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর দাবি, সংস্কার, নির্বাচন ও নিরাপত্তা—এই তিন অজুহাতে জোট করা হলেও আসলে ক্ষমতার সমীকরণে সংসদে যাওয়ার আগ্রহ থেকেই এটি হয়েছে। জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতা ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হয়েও বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার আনুষ্ঠানিক তথ্য তাঁদের জানানো হতো না।

সামান্তা শারমিন আরও অভিযোগ করেন, নীতিনির্ধারণে নারীদের প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পর্ষদের তিন নারী সদস্য—তিনি নিজে, ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা—জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও সাতজন পুরুষ সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা চাপিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি ছাড়ছেন না; সমমনাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।

এনসিপির নেতারা বলছেন, নেতৃত্বের সঙ্গে সামান্তার মতাদর্শিক বিরোধ প্রায় এক বছর আগে শুরু হয়েছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে জোটের সময় তিনি প্রতিবাদ জানান। দলের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, সামান্তা কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং এখন পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁর নিষ্ক্রিয়তাকেই একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন; এতে এনসিপির লাভ বা ক্ষতি কোনোটিই হয়নি।

এর আগে একই কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ২০ জনের বেশি নেতা পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।