শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

নাম পাল্টে ১৩ বছর পলাতক, ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী হত্যা মামলার আসামি আশুলিয়া থেকে সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার

২০১৩ সালে ঝিনাইদহে ঠিকাদারি ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাস সুজা বিশ্বাস নামে আশুলিয়ায় ব্যবসা করছিলেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

নাম পাল্টে ১৩ বছর পালিয়ে থাকা ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি জানায়, তিনি নাম বদলে সুজা বিশ্বাস পরিচয়ে সেখানে ব্যবসা করছিলেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা সুলতান আহমেদের জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকান ছিল। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি করতেন। চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারি কাজের কিছু টাকা তিনি চঞ্চল বিশ্বাসের কাছে পেতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এই বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সুলতানকে ডেকে নেন চঞ্চল। পরদিন সকালে সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে সুলতানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সুলতানের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চল বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই চঞ্চল পলাতক ছিলেন।

ঝিনাইদহ সিআইডির পরিদর্শক আখতার হোসেন জানান, তদন্ত শেষে চঞ্চল বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু আসামিরা উচ্চ আদালতের মাধ্যমে মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করিয়ে রাখেন। পরে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলাটি এখন তদন্তাধীন।

আখতার হোসেন আরও জানান, তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চঞ্চল ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে। তাঁকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম থাকা অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা গেছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, চঞ্চল বিশ্বাস এই মামলায় অভিযুক্ত; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যাবে না।