মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

ব্রাজিলে লুলার চতুর্থ মেয়াদের জয়: নির্বাচনকে ‘কারচুপির’ বললেন ট্রাম্প, ফল বাতিল চাইলেন ফ্লাভিও বলসোনারো

দ্বিতীয় দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন লুলা দা সিলভা; ফল না মেনে নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলেছেন পরাজিত প্রার্থী, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলেছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে বামপন্থী নেতা লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। রোববারের এই ভোটে সরকারি ফল অনুযায়ী লুলা বৈধ ভোটের ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন; ফ্লাভিওর ভাগে গেছে ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো লুলা ফ্লাভিওর চেয়ে প্রায় ৪৪ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন। মঙ্গলবার লুলার ৮১তম জন্মদিন।

ফল মেনে নেননি ফ্লাভিও। সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, লুলার অনুরোধে পরিবহন সমস্যার কারণে সারা দেশে ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নোংরা কৌশল’। ফ্লাভিও নিজেও ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। লুলার বিরুদ্ধে প্রচারকালে সামাজিক ব্যয়ের ঘোষণার মাধ্যমে ‘অভূতপূর্ব ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ফ্লাভিও জানান, পুলিশ তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেছে এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তাঁর ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির সিদ্ধান্তে এটি হয়েছে। এর ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর একটি পডকাস্ট মন্তব্য বলে জানান তিনি, যেখানে নির্বাচনের দুই দিন আগে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, ভাই না জিতলে তিনি দেশ ছাড়ার পক্ষে। ফ্লাভিও বলেন, দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না; তিনি পাসপোর্ট জমা দেবেন এবং নিজেকে রক্ষা করবেন। ব্রাজিলের পুলিশ বাবা জাইরের জীবনীচিত্র ‘ডার্ক হর্স’-এর অর্থায়ন নিয়ে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো, রাশিয়া, চীন, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে বলসোনারো পরিবারের মিত্র হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সোমবার দুপুর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ফল স্বীকার করেননি বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে এটা খুব খারাপ দেখিয়েছে… আরেকটি কারচুপির নির্বাচনের মতো মনে হয়েছে, সত্যি বলতে। এত দুর্নীতিগ্রস্ত দেখিয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো পক্ষ নেননি, তবে ভোটের হিসাব গণনার ধরন, বিশেষ করে সময় বাড়ানোর বিষয়টি তাঁর কাছে ‘খারাপ দৃষ্টান্ত’ মনে হয়েছে। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ দেননি।

লুলার জয়ের পর ব্রাজিলের বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার প্রায় ১৭ শতাংশ পড়ে গেছে এবং ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর কমেছে; রাজস্ব শৃঙ্খলা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এর কারণ। ভোটের রাতে সাও পাওলোসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে লুলার জয় উদযাপন করেন। সমর্থকদের সামনে লুলা বলেন, এই জয় ‘গণতন্ত্র রক্ষায় উঠে দাঁড়ানো বিদ্রোহী তরুণদের’ কাছে তাঁর ঋণ।