যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অন্তত সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয় পেয়েছেন, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, এ নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় ঘটেছে এবং ডেমোক্রেটিক দল সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত নাম ৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। অবসরে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে তিনি সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম। প্রচারের সময় রিপাবলিকান পার্টি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকে মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন তিনি। ইসরায়েলকে নিঃশর্ত অস্ত্র সরবরাহের সমালোচনা করে তিনি গাজায় সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলেছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসলামবিদ্বেষ ও ধর্মীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন। মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের অর্থায়ন বন্ধ করা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কূটনীতির প্রত্যাবর্তনের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাট নেত্রী ইলহান ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রশিদা তালিব মিশিগানের ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ জার্সির ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে ৫৬ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হামাভি রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেককে হারিয়ে ওই অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম মুসলিম সদস্য হয়েছেন। তিনি প্লাস্টিক সার্জন, অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা চিকিৎসক এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক।
প্রার্থীদের প্রচারের মূল বিষয় ছিল নাগরিক অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতি। কয়েকজন নবনির্বাচিত ও পুনর্নির্বাচিত আইনপ্রণেতা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড বজায় রাখা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়গুলোও প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছেন।