বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

দুমকিতে পায়রা নদীর ভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা বিলীন

আলগী গ্রামে পায়রা নদীর ভাঙনে বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী।

পটুয়াখালীর আলগী গ্রামে পায়রা নদীর ভাঙনে গোরস্তান, মসজিদ, মন্দির, কৃষিজমি ও শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে এ ভাঙন চলতে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী। নদীর ভাঙনে এলাকাবাসী তাদের ঘরবাড়ি রক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকে তাদের বাসগৃহ ও স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিলোপমান গ্রামের কিছু বাসিন্দা জানান, পানির স্রোতের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে এবং এতে নতুন স্থাপনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী নজরুল ইসলাম নদীভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, পায়রা নদীর ভাঙনে আলগী গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর ভিটায় পুনর্বাসন ও সহায়তার জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমরান হোসেন জানান, ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ পাড় দিয়ে তিন কিলোমিটার পাইলিং করা হলে লেবুখালী ও আলগী গ্রামকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। জাকির বিশ্বাস বলেন, বিগত পাঁচ-ছয় বছরে দুই শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি, ফসলি জমি, গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এই অবস্থা দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, 'সরকার আসে সরকার যায়, আর আলগী গ্রাম শুধু পায়রায় খায়, এ যেন দেখার কেউ নাই।' এমরান হোসেনের বক্তব্য মতে, ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হবে।