শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

আটকে পড়া সৌদিপ্রবাসীদের ভিসা-আকামার মেয়াদ বাড়াতে কাজ করছে সরকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চলছে; এর মধ্যে সৌদিগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আটকে পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার (সৌদি আরবে বসবাসের অনুমতিপত্র) মেয়াদ বাড়াতে সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ কথা বলেন।

রিয়াদের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণের পর প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি তোলেন। পদ্মা টাইমস ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে সৌদি আরবে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা এসেছে। দৈনিক আমার দেশ তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে লিখেছে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অনেকে আটকা পড়েছেন, তাঁদের অনেকের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, আর সরকার তা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে।

আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাঁরা আর ওই দেশগুলোতে যেতে পারছেন না, তাঁদের দেশে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে কবে নাগাদ, কোন প্রক্রিয়ায় বা কতজনের মেয়াদ বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ নেই।

সৌদিগামী ফ্লাইট বন্ধ

এদিকে হামলার কারণে সৌদি আরবে যাতায়াতও ব্যাহত। ইত্তেফাক জানিয়েছে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার রাতের হামলার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-দাম্মাম রুটের ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের সব ফ্লাইট এবং ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। বৃহস্পতিবারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানিয়েছে, জেদ্দা ও মদিনার ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী চলবে; জরুরি প্রয়োজনে দাম্মাম ও রিয়াদের যাত্রীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওই দুই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। স্থগিত ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র কাওসার মাহমুদের বরাতে জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, এতে আটকা পড়েছেন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী। এর মধ্যে ৬২টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিল চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাহেদের মরদেহ গ্রহণের সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ এ পর্যন্ত দেশে ফিরেছে। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।