দেশে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই শিশুদের ওপর সহিংসতার এক হাজার ৮১০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের পাঁচ বছরের যেকোনো পূর্ণ বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এসব ঘটনায় ৪৯৪ শিশু নিহত ও এক হাজার ৩৬১ শিশু আহত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ‘বাংলাদেশে শিশু অধিকার লঙ্ঘন: ২০২১ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল এক হাজার ৩৭১টি; এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্তই তা ১,৮১০টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের পুরো সময়ের চেয়ে ৪৩৯টি বেশি, প্রায় ৩২ শতাংশ। এর আগে ২০২১ সালে ছিল এক হাজার ৭২৫টি, ২০২২ সালে এক হাজার ৪১৫টি, ২০২৩ সালে এক হাজার ৩৫২টি এবং ২০২৪ সালে এক হাজার ৫২টি।
নিহত শিশুর সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরের পুরো সময়ে ২৮৮ শিশু নিহত হলেও এ বছর প্রথম নয় মাসেই নিহত হয়েছে ৪৯৪ শিশু, যা প্রায় ৭২ শতাংশ বেশি। গত বছর মাসে গড়ে ২৪ শিশু নিহত হলেও এ বছর মাসিক গড় প্রায় ৫৫। আহত শিশুর সংখ্যা ২০২৫ সালের এক হাজার ৮৩ থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩৬১।
সংগঠনটির হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের মোট ৬৫৭টি ঘটনার মধ্যে ৩৯২টিতে ভুক্তভোগী শিশু; হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর নয় মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। একই সময়ে ২৭৬ শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর ১৮ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ৬৬৪ শিশু নিহত ও চার হাজার ৩৭৮ শিশু আহত হয়। এইচআরএসএস মনে করছে, ওই বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রভাব থাকতে পারে; তবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ঘটনাভিত্তিক তথ্য যাচাই দরকার বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
চাইল্ড হেল্পলাইনের ব্যবস্থাপক চৌধুরী মোহায়মেন বলেন, শিশু সহিংসতা বাড়ার পেছনে প্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়া, মানবিক দায়বদ্ধতা ও সহনশীলতা কমে যাওয়া এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রের কঠোর ভূমিকা, আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন।