শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

পিরোজপুরের কাউখালীতে ইউএনও পরিচয়ে অনুদানের কথা বলে বীর মুক্তিযোদ্ধার ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলে বিকাশে টাকা নেওয়ার ঘটনায় আসল ইউএনও বলছেন, এ ধরনের কোনো বরাদ্দ নেই।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। একই কায়দায় উপজেলার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি ও কচুয়াকাঠি এলাকায় এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজ (৭৫) জানান, শুক্রবার সকালে বিড়ালজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম আলী খান তাঁকে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা এসেছে। এ বিষয়ে ইউএনওর পরিচয়ে একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতে দুই লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের টাকা পেতে ফাইল প্রস্তুতসহ অন্যান্য খরচ বাবদ তাৎক্ষণিক ৪২ হাজার টাকা অন্য একটি নম্বরে পাঠাতে হবে বলে তাঁকে জানানো হয়। ওই ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে কিছু যাচাই না করেই খাইরুল আলম ফিরোজ বিকাশের মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।

পরে বিষয়টি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে ইউএনওর কাছে পৌঁছালে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো বরাদ্দ বা দাপ্তরিক নির্দেশনা নেই। কাউখালীর ইউএনও রেহেনা আক্তার বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে আমার কোনো দাপ্তরিক নির্দেশনা বা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই।’ তিনি আরও জানান, ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কাউখালী থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে।