জাতিসংঘের প্রতিবেদনে গাজার অর্থনীতি বিশ্বের 'সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে': পুনরুদ্ধার বাবদ ৭১.৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজার অর্থনীতিতে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (আঙ্কটাড) এর একটি প্রতিবেদনে ঘোষণা করা হয়েছে যে, গাজার অর্থনীতি বিশ্বের “রেকর্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে” প্রবেশ করেছে। এই সংকট পুনরুদ্ধারের জন্য ৭১.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন এবং এটি উৎপাদন ক্ষমতার ব্যাপক ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট হয়েছে।
এই মূল্যায়ন মূলত মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপির ব্যাপক পতন এবং পুনরুদ্ধারের বর্ধিত সময়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ২০২৫ সালে গাজার বার্ষিক মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি মাত্র ২১২ ডলার, যা ২০২২ সালের মাত্র ১৭%।
অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে গাজার ৯২% অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা সব সেক্টরে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ২০২২ সালের তুলনায় ৯৪% এবং নির্মাণ খাতে উৎপাদন ৯৯% কমে গেছে। শ্রমবাজারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ৯০% এর বেশি কর্মক্ষম মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে।
একই সময়ে, বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আলুর দাম সংঘাত-পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে ২০ গুণেরও বেশি বেড়েছে।
ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫.২ বিলিয়ন ডলার অনুমান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২২.৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে মোট পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনকে ৭১.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দিয়েছে। একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রয়োজন ক্রমাগত বাড়তে থাকবে বলে আঙ্কটাড জানিয়েছে। এর ফলে, ২০২৫ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনি অর্থনীতিতে গাজার অংশীদারিত্ব ৪% এর নিচে নেমে এসেছে এবং এখানকার মাথাপিছু জিডিপি অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাত্র ৫%।