শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি না হলে ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকদের সরানোর হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর; ওয়াসার বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত সাত মাসে কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি না দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়েও দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় এ হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয়। গত সাত মাসে সংস্থাটির কার্যক্রমে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই মাস পর তিনি আবার ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন এবং তখন আমূল ও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান। পানির সংকট তৈরি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়, তাই নগরবাসীর চাহিদা মেটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও তিনি জানান।

সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সব ওয়াসা থেকে পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন করা হবে। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডগুলো জনসেবামূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করছে বা অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করছে, এতে কাজের গতি কমছে।

সভায় জানানো হয়, রাজধানীতে বর্তমানে দৈনিক পানির চাহিদা ও সরবরাহ—দুটিই ৩১৪ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে, বাকি ২৬ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। প্রতিমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেন এবং ভূ-উপরিস্থ পানিনির্ভর প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে বলেন।

তিনি নির্দেশ দেন, দাসেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা অঞ্চলে পাইপলাইন সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়তে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করতে বলা হয়েছে। অবৈধ ও চোরাই পানির লাইন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে, এতে প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলেও ছাড় নয় বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো, মিটার রিডিং ও বিল আদায়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা জোরদার এবং ২০৫০ সালের চাহিদা বিবেচনায় নতুন জনবল কাঠামো তৈরির নির্দেশও দেন। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত না করতে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকেও সতর্ক করেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহা. মনিরুজ্জামান।