পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’ বক্তব্য নিয়ে সরকারের ভেতর থেকেই সমালোচনা এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার ক্রসফায়ার চায় না, বরং এর ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। আইজিপির বক্তব্যকে তিনি ‘অসতর্কতাবশত’ ও ‘ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করে জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে বলেন, আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর। তিনি বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে। রিজভীর প্রশ্ন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান কীভাবে ক্রসফায়ারের কথা বলেন। তবে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বলা হয়ে থাকলে বিষয়টি ভিন্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরাধ দমনে দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, প্রচলিত আইন দিয়েই সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন সম্ভব এবং সেসব আইন প্রয়োগের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। তাঁর ভাষ্য, গুম হোক বা ক্রসফায়ার—কোনোটিই অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। সস্তা কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কোনো বক্তব্য দেওয়া হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কিশোর অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক বক্তব্যে আইজিপি বলেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে। সে বক্তব্যের পর সেদিনই জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর এক ব্যাখ্যায় দাবি করে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি; অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।