বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে আমাদের ডিএনএ: জেনোমিক ডেটা সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা

নেক্সট-জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের প্রতিটি ধাপে লুকিয়ে আছে সাইবার হুমকি, বিশেষজ্ঞদের কড়া সতর্কবার্তা

হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে ডিএনএ
ছবি: হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে ডিএনএ

ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি চিকিৎসা ও গবেষণায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু এর নিরাপত্তা দুর্বল হলে মানবজাতির সবচেয়ে ব্যক্তিগত তথ্য—ডিএনএ—হাতে পেতে পারে হ্যাকাররা। নতুন এক গবেষণা বলছে, সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে জেনোমিক তথ্য হতে পারে পরিচয় চুরি থেকে শুরু করে বায়ো-সন্ত্রাসবাদের ভয়ঙ্কর অস্ত্র।

চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও জৈব-গবেষণায় নেক্সট-জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং (NGS) গত এক দশকে বিপ্লব ঘটিয়েছে। মানুষের জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে রোগ শনাক্তকরণ থেকে ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পর্যন্ত এই প্রযুক্তি অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, একইসঙ্গে এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক নতুন ধরনের সাইবার ঝুঁকি।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের গবেষকরা প্রথমবারের মতো পুরো ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রক্রিয়াটিকে সাইবার নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখেছেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে—

নমুনা প্রস্তুত থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আক্রমণের সুযোগ রয়েছে।

সিনথেটিক ডিএনএ নমুনায় ম্যালওয়ার কোড লুকিয়ে রাখা সম্ভব।

AI ব্যবহার করে জেনোম সম্পাদনা ও বিকৃতি ঘটানো যেতে পারে।

গোপন রাখা নমুনা থেকেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ঝুঁকি রয়েছে।

 

সম্ভাব্য বিপদ

ডিএনএ হলো একজন মানুষের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও স্থায়ী পরিচয়। এটি ফাঁস হলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অপব্যবহার হতে পারে—

ব্যক্তিগত পরিচয় চুরি ও ব্ল্যাকমেইল,

টার্গেটেড মেডিক্যাল নাশকতা,

এমনকি বায়ো-সন্ত্রাসবাদেও।

 

এর আগে সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে স্বাস্থ্য খাতে। যেমন—হাসপাতালের ডেটাবেস হ্যাক করে রোগীর তথ্য ফাঁস হয়েছে একাধিকবার। তবে ডিএনএ সিকোয়েন্সিং হ্যাক হলে তা কেবল আর্থিক বা তথ্য ফাঁসের সীমাবদ্ধতায় থাকবে না; বরং একজন মানুষের স্বাস্থ্য, পরিচয় এবং এমনকি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পর্যন্ত প্রভাবিত হতে পারে।

 

গবেষক দলের নেতৃত্ব দেওয়া ড. নওমান আঞ্জুম বলেন,
“আজকে আমরা যদি ডিএনএ ডেটাকে যথাযথ সুরক্ষা না দিই, আগামীকাল এটি এমন এক অস্ত্রে পরিণত হবে যা রাষ্ট্র, অপরাধী গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসীরা সহজেই ব্যবহার করতে পারবে।”

 

বিশেষজ্ঞদের মতে—

ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ে এন্ড-টু-এন্ড সাইবার সিকিউরিটি প্রোটোকল নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে সমন্বিত সাইবার-বায়োসিকিউরিটি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

জেনোমিক ডেটা শেয়ার বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা ও এনক্রিপশন জরুরি।


ডিএনএ সিকোয়েন্সিং মানব সভ্যতার চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসাধারণ এক অগ্রগতি। কিন্তু যদি এর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে এটি পরিণত হতে পারে মানবজাতির জন্য এক নতুন সাইবার অস্ত্রে। তাই গবেষকদের আহ্বান—জেনোমিক ডেটাকে এখনই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে আনা জরুরি।