বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

কিশোরদের নিরাপত্তা মামলায় টিকটকের ১০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ, অ্যাপে নতুন সীমাবদ্ধতা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং অ্যাপ ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা চালু করতে সম্মত হয়েছে টিকটক।

কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার বিচার এড়াতে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে, কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ ব্যবহারে কিছু নতুন সীমাবদ্ধতাও চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। শুক্রবার টিকটক ও আলাবামা কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই সমঝোতা হয়, যার ফলে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মামলাটির বিচার আর হচ্ছে না। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের দপ্তর জানিয়েছে, সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে টিকটক অঙ্গরাজ্যকে কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার দেবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই অর্থের পরিমাণ বেড়ে ৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মার্শালের দপ্তর থেকে আরও জানানো হয়, টিকটক কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা চালু করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শিশুদের টিকটক ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি, অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশ কিছু সুবিধা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। আলাবামার মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তরুণ ব্যবহারকারীদের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের কথিত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার সর্বশেষ ঘটনা। বিচারে যাওয়ার আগেই টিকটক এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর করা মামলা এবং কেনটাকির একটি স্কুল জেলার করা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি করেছে। অন্যদিকে, মেটা আদালতে মামলা লড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। চলতি বছরের মার্চে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ দেয়। আগস্টে শিশুদের আসক্ত করার উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক নকশা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা একটি বড় মামলার নিষ্পত্তিতে ১৮০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় মেটা। আলাবামা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে টিকটক ও এর চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে। অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখার জন্য টিকটককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ‘একটি অত্যাধুনিক জুয়া খেলার মেশিনের মতো’ কাজ করে। মামলায় খতিয়ে দেখা হয়, টিকটক ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ ও ‘কিডস মোড’-এর মতো নিরাপত্তা সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল কি না। আলাবামার তদন্তকারীরা ১৩, ১৪ ও ১৫ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীর পরিচয়ে টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং এসব অ্যাকাউন্টে ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ চালু থাকা সত্ত্বেও অল্প সময়ের মধ্যেই আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি, খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক সমস্যা, অ্যালকোহল ও যৌনতা নিয়ে ভিডিও দেখতে পান। অঙ্গরাজ্যটির আরও অভিযোগ ছিল, টিকটক অ্যাপ স্টোরগুলোকে ভুলভাবে জানিয়েছিল প্ল্যাটফর্মটি ১২ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশুদের জন্য উপযোগী এবং এতে কেবল সামান্য বা খুব কম পরিমাণে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।