বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ঈশ্বরদী, পাবনা ও নাটোরসহ আট শহরে পদ্মা-মেঘনার পানি সরবরাহ: ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পের সুপারিশ

আর্সেনিক-আয়রন ও নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মোকাবিলায় ঈশ্বরদী ক্লাস্টারের চার পৌরসভাসহ আট শহরের জন্য প্রকল্প অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পিইসি।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ঈশ্বরদী, পাবনা, গোপালপুর ও নাটোরসহ আটটি শহরে পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহের একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ৩৮৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকল্প প্রস্তাবনার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পের আওতায় থাকা আট শহর হলো চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, লাকসাম, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, পাবনা, গোপালপুর ও নাটোর। প্রকল্পে মেঘনা ও পদ্মার পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে; ঈশ্বরদী, পাবনা, গোপালপুর ও নাটোর পৌরসভার সরবরাহব্যবস্থা গড়া হবে পদ্মা নদীর পানি ব্যবহার করে। প্রকল্পভুক্ত শহরগুলোর ১৮ শতাংশ মানুষ বর্তমানে নিম্নমানের পানি সরবরাহব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলী মূল্যায়ন সভায় জানান, ঈশ্বরদী, পাবনা, নাটোর ও গোপালপুর পৌরসভা এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক ও আয়রনের পরিমাণ অত্যধিক এবং পানির স্তরও অনেক নিচে নেমে গেছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং লাকসাম, বরুড়া, চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ পৌরসভা এলাকাতেও একই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ৫৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাস্তবায়নকাল ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

পিইসি একাধিক ব্যয়খাতে কাটছাঁটের সুপারিশ করেছে। যেমন পরামর্শসেবা খাতে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার প্রস্তাবের বদলে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রাইস কন্টিনজেন্সিতে ২১৮ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বদলে ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ ১১ হাজার টাকা এবং ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সিতে ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বদলে ২৭ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভাকেও প্রকল্পের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে পিইসির সুপারিশের পরও প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।