রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ভেজাল ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা, যার প্রায় দুই ট্রাক ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বাউসা ইউনিয়নের চক বাউসা গ্রামে বাঘা-আড়ানী সড়কের পাশে, ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের কাছেই একটি ভাড়া বাড়িতে কারখানাটি চলছিল। বাড়িটি সব সময় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকত বলে ভেতরে কী হচ্ছে, তা স্থানীয়রা বুঝতে পারেননি। একই ইউনিয়নের হেদাতীপাড়া গ্রামে আরেকটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে তৈরি পণ্য বাজারজাত করার কাজ চলত বলেও জানা গেছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা। সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জেলা তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল ও বাঘা থানার পুলিশ সদস্যরা।
ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা মেহেদী আফজাল জানান, চক্রটি যুক্তরাজ্য, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট বানাচ্ছিল। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে দাম লেখা ছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এসব পণ্য মূলত অনলাইনে বিক্রি হতো। কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ট্যাবলেট তৈরির একটি যন্ত্র সরানো যায়নি; সেটি অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত হওয়ায় ঔষধ প্রশাসন সরাসরি মামলা করতে পারে না।
এর আগের দিনের অভিযান
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার বনানী থানার পুলিশের একটি দল স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় একই কারখানায় অভিযান চালায়। সে সময় সাতজনকে আটক করা হয়। বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, জুলাই মাসের একটি মামলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকিদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর চার শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪১ ধারায় মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অনন্যা জানান, কারখানার মূল মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে তাৎক্ষণিক তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
উঠেছে প্রশ্ন
জরিমানার টাকা কে পরিশোধ করেছেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ স্পষ্ট তথ্য দেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিযোগ করেন, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বুধবার রাতে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে; তবে কোনো পুলিশ সদস্য এ টাকা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন। কেউ ভুক্তভোগী হলে মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেবে বলেও জানান তিনি।