বরেন্দ্র অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে নেওয়া এই প্রকল্প আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের পুরো অর্থই জোগান দেবে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করবে। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত। গত ২৬ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়; সেখানে একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর প্রতিবেদনে সুপেয় পানির প্রাপ্যতার বিচারে দেশের ছয়টি অঞ্চলকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় বরেন্দ্র অঞ্চলের অবস্থান দ্বিতীয়। শুকনো মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেলে নিরাপদ পানীয় জল ও সেচের পানির অভাব দেখা দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পানির অপর্যাপ্ত পুনর্ভরণ এই সংকটকে আরও তীব্র করছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ৬৩.৬ শতাংশ এলাকায় মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা আছে, বাকি ৩৬.৪ শতাংশ এখনো এর বাইরে।
প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার ১২৩টি উপজেলায় কাজ হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী বসানো হবে ২২ হাজার ১৭৬টি অগভীর ছয় নম্বর নলকূপ ও ৫ হাজার ৩৯৯টি অগভীর নলকূপ, সঙ্গে থাকবে সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৮২৯টি এবং আরও ১ হাজার ১১৩টি গভীর নলকূপ, ১ হাজার ৬৮টি রিংওয়েল, ১ হাজার ৭৯৭টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ১৬টি পন্ড স্যান্ড ফিল্টার নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।
স্যানিটেশনের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ৫৯ হাজার ৭৭৮টি টুইন-পিট ল্যাট্রিন, ৪ হাজার ৩৯৪টি কমিউনিটিভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট এবং ১২৫টি গণশৌচাগার তৈরি হবে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ আশা করছে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার পরিধি বাড়বে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬-এর নিরাপদ পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে প্রকল্পটির সামঞ্জস্য রয়েছে।