সবুজ নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই নেই। নগরীর ১০৪টি বস্তিতে ৩২ হাজার ৫০০ পরিবার টিন ও প্লাস্টিকের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে। বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের সংকটের পাশাপাশি উচ্ছেদের ভয়ও তাদের নিত্যসঙ্গী। বুধবার বিশ্ব নগর দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর একটি সেমিনার হলে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে।
‘নগরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নগর দরিদ্র অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন। মূল প্রবন্ধ ও গবেষণা উপস্থাপন করেন বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহে টিন ও প্লাস্টিকের ঘরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। আইনি ভূমিস্বত্ব না থাকায় বস্তিবাসীকে সব সময় উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমেদ শফিউদ্দিন বলেন, চওড়া সড়ক ও আধুনিক অবকাঠামো থাকলেই একটি নগর সুন্দর হয়ে ওঠে না; নগরের বড় একটি অংশ যখন চরম মানবিক সংকটে থাকে, তখন উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায় না। রুলফাউ উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, জলবায়ুর অভিঘাত, খরা ও নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত অনেক মানুষ শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছেন, অথচ তাঁদের জন্য সামাজিক আবাসনের কার্যকর সরকারি ব্যবস্থা নেই। নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে কিছু আইনি ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ থাকলেও রাজশাহীর বস্তিবাসী নাগরিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছেন।
নামোভদ্রা বস্তির বাসিন্দা ওবিয়া বেগম ও বুধপাড়া বস্তির জাহেদা খাতুন বলেন, গরমের দিনে ঘরে থাকা যায় না, পানির সংকটের পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। উচ্ছেদের ভয় থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁদের স্থায়ী বা অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সাকিবুর রহমান বলেন, বস্তি এলাকার পরিবেশগত মানোন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আবাসনের বিষয়গুলো আগামী নগর পরিকল্পনায় যুক্ত করার কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহিদুর রহমান সরকারি খাসজমি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার আওতায় সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।
সংলাপ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়: সরকারি খাসজমিতে উচ্ছেদ না করে বসতি এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন; সিটি করপোরেশন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও নাগরিকদের সমন্বয়ে আবাসনবিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন; এবং বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ।