রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

বাগমারায় গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে, থানার সামনে মানববন্ধন

মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও তাঁর অব্যাহতি চেয়ে রোববার মানববন্ধন করেছেন উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা; চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার এবং চেয়ারম্যানের অব্যাহতির দাবিতে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাগমারা থানার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য মেছের আলী জানান, তিনি ১০ নম্বর মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তাঁকে মুঠোফোনে কল করেন। ফোনের সমস্যা ও নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে তিনি কলটি ধরতে পারেননি। পরে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান ফোন বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা জানানোর পরও তাঁর বক্তব্য না শুনে তাঁকে থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেন মেছের আলী।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলেও প্রায় এক মাসেও সমাধান হয়নি। পরে ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগমারা গ্রাম পুলিশের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনসহ অন্য সদস্যরা। বক্তারা বলেন, একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিষদ থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ কিছু চাল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মেছের আলীর কাছে জানতে চাইলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে তাঁকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।