সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

প্রথম আট মাসে দেশে ৫ কোটি ৭৯ লাখ কেজি চা উৎপাদন, গত পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ; বছরশেষে রেকর্ডের আশা

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি-আগস্টে উৎপাদন গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে; অনুকূল আবহাওয়া থাকলে বছর শেষে ১০ কোটি ৫০ লাখ কেজি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ৫ কোটি ৭৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি-আগস্টে উৎপাদন হয়েছিল ৪ কোটি ৯৫ লাখ কেজি; সে হিসাবে এবার উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ১০ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের আশা করছে চা বোর্ড। তা হলে ২০২৩ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে; ওই বছর দেশে ১০ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে উৎপাদিত চায়ের প্রায় অর্ধেক এসেছে মৌলভীবাজার জেলা থেকে।

উৎপাদন বাড়ার পেছনে আবহাওয়ার ভূমিকার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল শ্রীমঙ্গলে ২ হাজার ৬২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৫৯৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ বৃষ্টিপাত বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, চা বোর্ডের তদারকি এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের দিকনির্দেশনা উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বছর শেষে ১০ কোটি ৫০ লাখ কেজি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উৎপাদন বাড়লেও এবার নিলামে দাম ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬টি নিলামে ৫ কোটি ১৯ লাখ কেজি চা বিক্রি হয়েছে, যার মোট মূল্য ১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। প্রতি কেজির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২৮২ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং মোট বিক্রয়মূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লে নিলামে দাম কমার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম নিলামমূল্য চা শিল্পকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ২০২৪-২৫ নিলাম মৌসুমের প্রথম ২০টি নিলামে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু হয়; ইতিবাচক ফল পাওয়ায় ২০২৫ সালের মে মাসে তা সারা দেশে কার্যকর করা হয়। গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বাড়া ও নিলামে কম দাম পাওয়ায় অনেক বাগান ঋণ পরিশোধ, শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও নতুন বিনিয়োগে সমস্যায় পড়েছিল। চা বোর্ডের তথ্যে ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ নিলাম বছরের মধ্যে চায়ের বার্ষিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ৫৬২ কোটি টাকা বেড়েছে।

তবে ফিনলে টি কোম্পানির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাহসিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, এ বছর চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে তাঁর মনে হয় না; ন্যূনতম নিলামমূল্য থাকায় দাম বড় আকারে কমার আশঙ্কাও তিনি দেখছেন না। দেশে নিবন্ধিত চা-বাগানের সংখ্যা ১৭২। এর বাইরে উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের দুই জেলায় ক্ষুদ্র চাষিরাও চা উৎপাদন করেন। ২০২৫ সালে দেশের মোট চায়ের ৪৭ শতাংশ এসেছিল মৌলভীবাজার থেকে, আর পঞ্চগড়ের নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা থেকে এসেছিল প্রায় ২১ শতাংশ।