সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

রেলের ৬৩ হাজার একরের মধ্যে ৩ হাজার ২৪ একর জমি বেদখলে, সংসদীয় কমিটিকে জানাল মন্ত্রণালয়

রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দিয়ে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ৬৩ হাজার ৭২ একর জমির মধ্যে ৩ হাজার ২৪ একর বেদখলে রয়েছে। সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেদখল জমি উদ্ধারে কার্যক্রম চলছে।

সংসদীয় কমিটির সূত্র জানায়, ৪ অক্টোবরের বৈঠকে রেলওয়ের জমি-সম্পর্কিত তথ্য চেয়েছিল কমিটি। সোমবারের বৈঠকে সেসব তথ্য তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং গত অর্থবছরে ইজারা থেকে আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী রেলের অব্যবহৃত জায়গা লিজ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা বেদখল জমি উদ্ধারে সহায়ক হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে বেদখল জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা সরানো হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলভূমিতে মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

অনলাইন টিকিট বিক্রি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ই-টিকিটে কালোবাজারি ঠেকাতে যাত্রার ১০ দিন আগে একসঙ্গে সব টিকিট না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে ছাড়ার পরামর্শ দেন কমিটির একজন সদস্য। বর্তমানে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে; এর আগেই নতুন ভেন্ডর নিয়োগে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়।

মালবাহী ট্রেন নিয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার এবং বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন চলছে। তবে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমেছে। ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে এবং আগে অনুমোদিত আরও ৩০টির টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে; ২০২৯ সালে মোট ৬০টি সংগ্রহ হলে মালবাহী ট্রেন বাড়বে। এ ছাড়া শিগগির বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হবে, যার মধ্যে ১৮টি ইতিমধ্যে এসেছে।

কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে বৈঠকে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।