বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ছাত্রলীগ কর্মীরা জড়িত

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে যেখানে এক ছাত্রীকে একটি গ্রুপের সদস্যরা যৌন নির্যাতন করেছে। ঘটনাটি ঘটে ১৭ জুলাই রাতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী। জানা যায়, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ পরিষ্কার না হওয়ায় দোষীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সেখানে প্রায় ১৩৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও মাত্র অর্ধেক ক্যামেরায় নাইট ভিশন প্রযুক্তি রয়েছে। নির্যাতিতা ছাত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি হাটহাজারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু প্রোক্টোরিয়াল বডি অভিযোগের বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শত শত ছাত্রী ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ জানায়। তাঁরা নিরাপত্তা ও বিচার দাবি করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ রেজাউল হক রুবেলকে শোকজ নোটিশ পাঠায়। রুবেল জানান, তিনি কারো কাছ থেকে অভিযোগ জড়ানো বা আটকে দেননি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।কিন্তু কেউ কেউ দাবি করেছেন, রুবেল ভিকটিমকে মামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। হাটহাজারী থানার এক কর্মকর্তা বলেন, সাক্ষী এবং মানদণ্ডের ভিত্তিতে আমরা জানাতে পেরেছি অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী। রুহুল আমিন জানান, তারা অভিযুক্তদের গ্রেফতারে কাজ করছেন, তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। সত্যিই এ ঘটনায় পূর্বের কোনও গাফিলতি নেই বলে দাবি করেছেন প্রোক্টর রোবিউল হাসান ভূঁইয়া। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে রাব্বি সেগুন বলেন, একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আমি লজ্জিত। ছাত্রলীগ ছাত্রদের অধিকার রক্ষার জন্য সর্বদা কাজ করে। তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনের পদ্ধতিতে শাস্তি দেওয়া উচিত। প্রোক্টর দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি ছিল না। ভিসি শিরিন আখতার জানান, ভিকটিমকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুরক্ষায় রাখা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। আদালত এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।