রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

সালথায় সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ: সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি আদায়

রবি মৌসুমের শুরুতে ফরিদপুরের সালথায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা; প্রশাসন বলছে বাজারে ঘাটতি নেই।

ফরিদপুরের সালথায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে। সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় চাষিরা। এতে পেঁয়াজের চারা উৎপাদনসহ চলতি রবি মৌসুমের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ, রবি মৌসুমে পেঁয়াজ, রসুন ও শীতকালীন সবজির চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ৫০ কেজির এক বস্তা সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ বস্তাপ্রতি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, সারের দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো নেই এবং ক্যাশমেমো ছাড়াই সার বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলার খোয়াড় গ্রামের কৃষক মিলু শেখ ও লাভলু মাতুব্বর জানান, সরকারি দামে সার কিনতে গেলে সংকটের কথা বলে মাত্র ১৫ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলেই চাহিদামতো সার মিলছে।

তবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বলছে, বাজারে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ বলেন, সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি দুই ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।