বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়ল ২০ গুণঃ কে বেশি লাভবান—ভারতীয় আইটি নাকি মার্কিন টেক জায়ান্টরা? - আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় ভিসা ফি ১ লাখ ডলার; ভারতীয় কোম্পানির প্রভাব কমলেও মার্কিন টেক জায়ান্টরা এখন এগিয়ে

এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়ল ২০ গুণঃ কে বেশি লাভবান—ভারতীয় আইটি নাকি মার্কিন টেক জায়ান্টরা? - আলজাজিরার বিশ্লেষণ
ছবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি এক লাফে ২ হাজার–৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে করেছেন ১ লাখ ডলার। অভিবাসন নীতি ঘিরে বিতর্কের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠছে—গত দুই দশক ধরে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো যে ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল, এখন কি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই আসল বিজয়ী হয়ে উঠছে?

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী নিয়োগ দিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে প্রতিটি এইচ-১বি ভিসার জন্য দিতে হবে ১ লাখ ডলার। আগে এই ফি ছিল সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার। নতুন নিয়ম আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে যারা এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বা যারা ভিসাধারী, তাদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি মার্কিন শ্রম বিভাগ বেতন কাঠামোর নতুন নিয়ম আনছে, যাতে নিশ্চিত করা যায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও উচ্চ বেতনের বিদেশি পেশাজীবীরাই ভিসা পান।

ভারতীয়দের আধিপত্য কমছে

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকরা বরাবরই শীর্ষে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ভিসার ৭১ শতাংশই পেয়েছিলেন ভারতীয়রা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিত্রটা বদলাতে শুরু করেছে।

২০০৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভিসা পেয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) – প্রায় ৯৮ হাজার। তার পরেই রয়েছে কগনিজ্যান্ট (৯২ হাজার), ইনফোসিস (৮৭ হাজার) ও উইপ্রো (৭৭ হাজার)। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই অ্যামাজন (১০,০৪৪), মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা, অ্যাপল, জেপি মরগান চেজ, ওয়ালমার্ট ও ডেলয়েট ভিসা প্রাপ্তির তালিকায় শীর্ষে চলে আসে। ভারতীয় কোম্পানির মধ্যে একমাত্র টিসিএস শীর্ষ দশে জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে।

মার্কিন কোম্পানির উত্থান

ভারতীয় কোম্পানিগুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়তে শুরু করলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বাড়াতে শুরু করে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে টিসিএসের মার্কিন কর্মীদের অর্ধেকের বেশি স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। অন্যদিকে অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট ও অন্যান্য মার্কিন কোম্পানিগুলো দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ বাড়িয়ে নিয়েছে।

বিতর্ক ও মামলা

এইচ-১বি ভিসা ইস্যু নিয়ে ভারতীয় কোম্পানিগুলো সমালোচনার মুখে পড়লেও মার্কিন কোম্পানিগুলোও মুক্ত নয়। টিসিএসের বিরুদ্ধে আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করে ভারতীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগে মামলা চলছে। অন্যদিকে টেসলার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা আমেরিকানদের তুলনায় বিদেশি কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কড়া অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে একাধিকবার এটিকে "চমৎকার একটি কর্মসূচি" বলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আবারও দেখাচ্ছে, তার রাজনৈতিক সমর্থনঘাঁটির চাপেই তিনি অভিবাসন কঠোর করার পথে হাঁটছেন।

 

ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়লেও মার্কিন টেক জায়ান্টরা আপাতত এগিয়ে যাচ্ছে। এক দশক আগে যেখানে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য বিস্তার করত, এখন অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট প্রমুখ কোম্পানি হয়ে উঠেছে এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী।