কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারির পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। মাঠপর্যায়ে কিছু কিশোর অপরাধী গ্রেপ্তার হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণকারী গডফাদাররা আগের মতোই আড়ালে থেকে যাচ্ছেন। এমনকি গডফাদারদের তালিকা তৈরির কাজও অনেকটা থমকে আছে।
সূত্রগুলোর দাবি, গডফাদার হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আসায় তালিকা তৈরির গতি কমে গেছে। ফলে নিয়মিত অভিযানে যাদের পাওয়া যাচ্ছে, মূলত তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
হত্যা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক কারবার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ এবং জমি ও ফ্ল্যাট দখলের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডেও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা দলটির কিছু নেতাকর্মী অঞ্চলভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন দেওয়াসহ নানা নাশকতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী অনেক কিশোর গ্যাং সদস্য এখনো সক্রিয়। শুধু বদলেছে তাদের পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদার, আর এসব গ্রুপে যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু মুখ।
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। রাজধানীসহ সব মেট্রোপলিটন এলাকায় এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পুলিশ সদস্যদের কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ নুরুল ইসলাম মনি কিশোর অপরাধ নির্মূলে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করার তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই কার্যক্রম গতি হারিয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়।