বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

নরসিংদীর চরদিঘলদীতে দুই পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে অন্তত ২৪ জন আহত

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জিৎরামপুর গ্রামের টিটিরচর এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁন মিয়া ও শহীদ মেম্বারের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে।

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামের টিটিরচর এলাকায় টেঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভোরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিৎরামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁন মিয়া পক্ষ ও শহীদ মেম্বার পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে। গত দুই মাসে এলাকায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে চার–পাঁচবার সংঘর্ষ হয়েছে। এলাকার লোকজন উত্তেজনা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্বজনেরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পাশের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, নরসিংদীর কোনো হাসপাতালে গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে তাঁরা সেখানে চিকিৎসা নিতে যাননি।

শহীদ মেম্বার পক্ষের মমিন মিয়া জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁরা বাড়িঘরে যেতে পারছেন না, ফিরতে গেলেই হামলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভোরের সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের ১২ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে বা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন; ককটেল বিস্ফোরণে রমজান নামের একজনও আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে বাড়িঘরে নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

চাঁন মিয়া বলেন, রাতে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর টেঁটা ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়, এতে তাঁদের ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের পেছনে শহীদ মেম্বারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে। শহীদ মেম্বার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোররাতে চাঁন মিয়ার লোকজন ঘুমন্ত অবস্থায় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর আগে হামলা চালায়, এতে নারীসহ তাঁর পক্ষের ১৪–১৫ জন আহত হয়েছেন।