শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসঙ্ঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এ অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, যা আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের মর্যাদার এক বিরল স্বীকৃতি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সাথে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এসব বৈঠকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা তুলে ধরছেন। এই বিশ্বমঞ্চে নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আফগানিস্তানে জাতিসঙ্ঘ সহায়তা মিশনের প্রধান রাবাব ফাতিমা এবং মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের মতো বাংলাদেশের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ আশার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এই ঘটনাপ্রবাহে উদ্দীপ্ত। এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলো ছাড়ের জন্য ইতোমধ্যে ইরানের সাথে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারদের সাথেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। এছাড়াও, সাইডলাইন বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক নিয়েও মালদ্বীপ ও ভুটানের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বেশ জটিল। জ্বালানি সংকট, সমুদ্রপথে বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পরাশক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান উপেক্ষা বিশ্বব্যবস্থাকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসঙ্ঘে রোহিঙ্গা সঙ্কট-বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবমুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই বিশাল মানবিক আতিথেয়তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্য বাংলাদেশকে একাই বহন করতে হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ক্রমেই নিষ্ক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তাও কমে আসছে। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, এ দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের একার নয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের দায়সারা মনোভাব কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তার পাঁচ দফা প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ দিয়েছেন। এতে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ, আশ্রিত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সার্বিক স্থিতিশীলতা সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই সম্মানজনক অবস্থান গৌরবের পাশাপাশি দায়িত্বেরও, যা কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।