বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

কোরআন অবমাননাকারী নর্থ সাউথ শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল গ্রেপ্তার

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল ক্যাম্পাসে কোরআনের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলেন ও পায়ে চাপ দেন; আটক শিক্ষার্থীকে হস্তান্তর করা হয়েছে প্রশাসনের কাছে

অপূর্ব পাল
ছবি: কোরআন অবমাননাকারী অপূর্ব পাল

পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে ভাটারা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক ডেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

ভাটারা থানার ওসি জানান, অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরআন অবমাননার ভিডিও আপলোড করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত থেকেই শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা তার বাসার নিচে জড়ো হয়ে শাস্তির দাবি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত দেড়টার দিকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে তোলা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ অপূর্ব পালের নিরাপত্তায় কাজ করছে এবং স্থানীয়দের ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মানসুর হাশিম রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি বৈঠকে অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে মামলা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ও সম্প্রীতির পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে।”

অপূর্ব পাল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, তিনি এর আগে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। শিক্ষক বলেন, “সে প্রথমে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়, পরে জার্নালিজমে আসে। পড়াশোনায় অনিয়মিত ছিল এবং তার আচরণে বিকৃত মানসিকতার ইঙ্গিত দেখা যেত।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও ধর্মীয় সংগঠন দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম তার এক বিবৃতিতে বলেন, “এ ঘটনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। প্রশাসন যেন শান্তিপূর্ণভাবে তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।”

তবে তিনি সবাইকে শান্তি ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কেউ এই ঘটনাকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে।