বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ঘানার চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক–২০২৫-এ বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থেকে ১০৬তম

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক–২০২৫-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম
ছবি: বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক–২০২৫-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম

১৩৯ দেশের মধ্যে গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে (জিআইআই) বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। আফ্রিকার ঘানা, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো দেশও এগিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাময়িক উন্নতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ এখনও উদ্ভাবনে স্থায়ী অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক (গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স–জিআইআই) ২০২৫-এ ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থেকে ১০৬তম স্থানে রয়েছে। গত বছরের মতো একই অবস্থানে থাকলেও আফ্রিকার ঘানা (১০১তম), কেনিয়া (১০২তম) ও নাইজেরিয়া (১০৫তম) বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে।

জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন–ডব্লিউআইপিও) গত ১৬ সেপ্টেম্বর সূচকের ১৮তম সংস্করণ প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভাবনে সাময়িক অগ্রগতি ধরে রাখতে না পারা বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা। ২০২২ সালে বাংলাদেশ এক লাফে ১৪ ধাপ উঠে ১০২তম স্থানে গেলেও পরের বছরই পিছিয়ে পড়ে ১০৫তম স্থানে। ২০২৪ সালে অবস্থান আরও খারাপ হয়ে ১০৬তম হয় এবং এ বছরও তা অপরিবর্তিত থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ স্থানে থাকা সুইজারল্যান্ড ১০০-এর মধ্যে ৬৬ পয়েন্ট পেয়ে টানা ১৫ বছরের মতো প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়, দক্ষিণ কোরিয়া চতুর্থ এবং সিঙ্গাপুর পঞ্চম স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত ৩৮তম হয়ে শীর্ষে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ৯৩তম, পাকিস্তান ৯৯তম এবং বাংলাদেশ ১০৬তম। শুধু নেপাল (১০৭তম) বাংলাদেশের নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ উদ্ভাবনে বিনিয়োগের তুলনায় বেশি আউটপুট উৎপাদন করলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে পিছিয়ে। ইনপুট সূচকে দেশটির অবস্থান ১১৫তম, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ নিচে। আউটপুট সূচকে ৯৫তম স্থানে থাকলেও এটি ২০২৪ সালের ৯২তম অবস্থানের চেয়ে খারাপ।

সাতটি স্তম্ভের মধ্যে সৃজনশীলতায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৮৬তম স্থানে রয়েছে। অবকাঠামোতে ৯০তম, বাজার আধুনিকায়নে ৯৬তম এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ৯৯তম। তবে মানবসম্পদ ও গবেষণায় ১৩৩তম, ব্যবসায়িক দক্ষতায় ১২৯তম এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় ১০৯তম অবস্থানে থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিটি সেবা আমদানি, শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের ঘাটতি, বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্প গবেষণা সহযোগিতার অভাব, শিক্ষক–শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীর স্বল্পতা বাংলাদেশের উদ্ভাবন খাতে অগ্রগতিকে সীমিত করে রেখেছে।

ডব্লিউআইপিও মহাপরিচালক ড্যারেন ট্যাং বলেছেন, “উদ্ভাবনী খাতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের ধীর গতি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের কার্যক্রম কমে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি ছাড়া স্থায়ী অগ্রগতি সম্ভব নয়।”