নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনায় বিতর্কে জড়ানো এক যুবককে অবরুদ্ধ করে মুখে কালি মাখিয়ে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে নওগাঁজুড়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ফেসবুক লাইভে এসে দর্শকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করায় বিতর্ক আরও বাড়ে। ওই লাইভে দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি জানতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনার পর নওগাঁ জজ কোর্টের এক আইনজীবী তাঁকে নিজের সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে। বদলগাছীতে তাঁর ভাড়া বাসা ছাড়ার জন্য স্থানীয়রা তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। আসবাবপত্র ও দুই স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজিহাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে মুখে কালি মাখিয়ে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মুক্ত হয়ে দুই স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে চলে যান। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই রাত ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবার তাঁকে দেখা যায়। সেখানে এক ব্যক্তির প্রশ্নের মুখে তিনি ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান, ভুল স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ওই এলাকায় আর যাবেন না বলে জানান। তবে তালাক দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।