রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি, আটক ৩

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগী আতিয়ার শেখের মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা, চিকিৎসক ও স্বজনদের সংঘর্ষে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ বছর বয়সী হৃদরোগী আতিয়ার শেখকে ভর্তি করা হয়। কুমারখালী উপজেলার সাউতা গ্রামের এই বাসিন্দা ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। স্বজনদের দাবি, কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক আতিয়ার শেখকে ইসিজি করানোর পরামর্শ দেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষই কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা দ্রুত হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত আতিয়ার শেখের ছেলে ওবায়দুর ইসলাম এবং তার দুই স্বজন রুহুল আমিন ও হযরত আলীকে আটক করে পুলিশ। দিবাগত রাত ৩টার দিকে মডেল থানা পুলিশ আটককৃত তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। ওবায়দুর ইসলাম অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে এবং চিকিৎসকেরা তাদের বেদম পিটিয়েছে। তবে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আকুল উদ্দিন বলেন, রোগীর স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শনিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এদিকে, আতিয়ার শেখের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা।