শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

গোয়ালন্দে মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে পিটুনি: বাবুর্চির পর সহকারী নারীরও মৃত্যু

দৌলতদিয়ার একটি দাখিল মাদ্রাসায় কাঠের চলার আঘাতে আহত ৬৫ বছরের সোনাবান বিবি ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন; অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজতে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় খাবার পরিবেশনের সময় পিটুনিতে বাবুর্চির মৃত্যুর পর তাঁর সহকারী আহত সোনাবান বিবিও (৬৫) মারা গেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গত শুক্রবার দুপুরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাবার চাওয়ার পর না দেওয়ায় এক ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের চলা দিয়ে বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবির মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। এতে ফজের আলীর মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সোনাবান বিবি দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার প্রয়াত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে শনাক্ত হয়। পুলিশ জানায়, তাঁর নাম মো. সেন্টু (৪২); তিনি নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের একডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে ভবঘুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।