আটক আসামিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যার্পণ
হাইতির প্রেসিডেন্ট হত্যা মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ আসামির বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যাকাণ্ডের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ জন সন্দেহভাজনকে তুলে আনা হয়েছে। রবিবার হাইতির পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে ফ্লোরিডায় নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। এদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। এটি হাইতির নিরাপত্তা দুর্বলতার মধ্যে বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় পদক্ষেপ।
এই মামলায় মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা মে মাসে গ্যাং নেতাদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। জেসন এ রেডিং কুইনোনেস তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মোইজের হত্যা মামলায় আমরা দায়িত্বে থাকা সবাইকে জবাবদিহিতা করতে যাচ্ছি। তার মতে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা সাহায্য করেছে, তাদের পুরোটা তদন্ত করা হবে।
যদিও ১৮ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে, তবে আরও কয়েকজনের হাইতিতে বিচার চলছে। হাইতির আদালতি ব্যবস্থা বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পিয়েরে এস্পেরেন্স, মানবাধিকার কর্মী, একে হাইতির বিচার ব্যবস্থা পতনের লক্ষণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
জোভেনেল মোইজকে ২০২১ সালের জুলাই মাসে তার বাসায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে হাইতিতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয় এবং সশস্ত্র গ্যাংগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘের হিসেবে ২০২৫ সালে হাইতিতে অন্তত ৮,১০০ গ্যাং হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এফবিআই জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, একই দিনে বিভিন্ন দেশে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে কুইনোনেস জানাননি সন্দেহভাজনদের পরিচয়। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ আমেরিকান আইনের অধীনে বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
হাইতিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণের মুখে, মোনের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এ মহামূল্যবান আদালতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা আশাবাদী।
সাম্প্রতিক সংঘাতে হাইতির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গ্যাংয়ের প্রভাব এবং শরণার্থীদের জীবনমান প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষের মাথার ওপর খরচ বেড়ে গেছে। সংস্থা আশা করছে, এই বিচার প্রক্রিয়া কোনোভাবে হাইতিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতিতে কিছুটা অবদান রাখবে।