নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশসহ নিহত ৫
ম্যানহাটনের ব্যস্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলায় প্রাণ হারালেন পুলিশসহ পাঁচজন; নিহত পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। তিনি কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। তার স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে সোমবার (স্থানীয় সময়) দুপুরে এক বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, তিনজন বেসামরিক নাগরিক এবং হামলাকারী নিজেও রয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হওয়া পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে নিশ্চিত করেছেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানায়, মধ্য ম্যানহাটনের ৮ম এভিনিউ এবং ৩৯তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা ছুটে গেলে বন্দুকধারী একজন অফিসারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম। তিনি ৭ বছর ধরে NYPD-তে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি ডিটেকটিভ পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
তার সহকর্মীরা জানান, দিদার ছিলেন দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন অফিসার। পুলিশ কমিশনার রেমন্ড ও’কনেল বলেন, “দিদারুল ইসলামের মৃত্যু শুধু পুলিশ বিভাগের নয়, পুরো নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।”
নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ছিলেন একজন রেস্টুরেন্ট কর্মী, একজন ডেলিভারি কর্মচারী এবং একজন পথচারী। তারা ঘটনাস্থলে অথবা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাটি ছিল আকস্মিক এবং বিভ্রান্তিকর। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমি হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পাই, তারপর সবাই দৌঁড়াতে শুরু করে। পুলিশ খুব দ্রুত এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।”
পুলিশ জানায়, বন্দুকধারীর নাম অ্যান্থনি হারল্ড, বয়স ৩১ বছর। তার বিরুদ্ধে অতীতে বেশ কয়েকটি সহিংসতার মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অসুস্থতা এবং ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
হামলার সময় দিদারুল ইসলামের সঙ্গে থাকা আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে, দিদারুল ইসলামের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্ত্রী, যিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা, বলেন, “তিনি ছিলেন আমার স্বপ্ন, আমার জীবনের প্রেরণা। আমরা আমাদের প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন সবকিছু থমকে গেছে।”
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কনসুলেট নিহত দিদারুল ইসলামের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।